
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে বঙ্গোপসাগরে নামছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল গবেষণা জাহাজ। প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা শিপইয়ার্ডে তৈরি হতে যাওয়া এই জাহাজটির নকশা তৈরি করেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ‘কিল মেরিন’। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে এটি বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) বহরে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা নিজস্ব সক্ষমতায় গভীর সমুদ্রের তলদেশ থেকে জ্বালানি, গ্যাস হাইড্রেট ও মূল্যবান খনিজ সম্পদের নিখুঁত তথ্য অনুসন্ধান করতে পারবেন।
জাহাজে থাকবে ওয়েট ল্যাব, ড্রাই ল্যাব ও ডেটা বিশ্লেষণ ল্যাব নামের তিনটি বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি। সাব-বটম প্রোফাইলার, মাল্টি-বিম ইকো সাউন্ডার এবং সাইড-স্ক্যান সোনারের মতো উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতির সাহায্যে সমুদ্রতলের নিচের স্তরের নিখুঁত ছবি ও ভূ-তাত্ত্বিক গঠন নির্ণয় করা যাবে। এতে একসঙ্গে ২৩ জন বিজ্ঞানী ও ক্রু সদস্য অবস্থান করে টানা ৮ থেকে ১০ দিন সমুদ্রে ২৪ ঘণ্টা গবেষণা করতে পারবেন।
পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে দুটি ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের স্পিডবোট, যা দ্রুত নমুনা সংগ্রহ ও রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সুনীল অর্থনীতির এই উদ্যোগকে দেশের সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহারের একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।