জনস্বার্থে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কুলসুম বেগমের ছেলে শাহাদাত জনধারার ফেসবুক পেইজ ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে কেবল সাংবাদিকদেরই নয়, এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত সকলকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এই হুমকি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা সাইবার নিরাপত্তা আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় পড়ে।
জনধারা নিউজ সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের গোবরিয়া জাব্বাপাড়ায় শাহাবুদ্দিন মেম্বার ও তার মেয়ে কুলসুম বেগমের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই কুলসুম বেগমের ছেলে শাহাদাত জনধারার ফেসবুক পেইজ এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিতে শুরু করে। শুধু সাংবাদিক নয়, এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকেই তিনি এই হুমকির আওতায় এনেছেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও আইনের শাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুতর হুমকি।
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে হুমকি ও হয়রানিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অনলাইনে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং ভীতি প্রদর্শন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে, কাউকে হত্যার হুমকি দেওয়া স্পষ্টতই একটি ফৌজদারি অপরাধ, যা সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়ে। এছাড়াও, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০৬ ধারা অনুযায়ী, কাউকে হত্যা বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় শাস্তি হিসেবে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। হুমকি যদি এমন হয় যে তা কারও মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তা আরও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়, যার আওতায় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সুরক্ষিত। যদিও এই অধিকার সম্পূর্ণ সীমাহীন নয় এবং রাষ্ট্র নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিছু যুক্তিসঙ্গত বাধা আরোপ করতে পারে, হত্যার হুমকি কোনোভাবেই বৈধ অভিব্যক্তি বা সমালোচনার আওতায় পড়ে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও প্রয়োগের মাধ্যমে মাঝে মাঢে বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হলেও, হত্যার হুমকি কোনোভাবেই বৈধ আলোচনার অংশ হতে পারে না। নতুন সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে বক্তৃতা-ভিত্তিক অপরাধগুলোর শাস্তি কিছুটা শিথিল করা হলেও, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধগুলোকে গুরুতর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিকতা পেশা আইনের চোখে একটি সম্মানজনক ও সংবিধান-সুরক্ষিত পেশা। জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া রাষ্ট্রীয় অপরাধ। শাহাদাতের এই হুমকি কেবল জনধারা নিউজের প্রতি নয়, বরং সমগ্র সাংবাদিক সমাজ ও আইনের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের উচিত এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং হুমকিদাতার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যদি এই ধরনের হুমকিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে তা ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অপরাধের পথ সুগম করবে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। জনধারা নিউজ এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।