
মানুষের জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন চারপাশে মানুষ থাকলেও হৃদয়ের গভীর কষ্ট কেউ অনুভব করতে পারে না। কিছু ব্যথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিছু অশ্রু কারও সামনে ঝরে না। তখন একমাত্র আশ্রয় হয়ে ওঠে সেই মহান রব, যিনি অন্তরের গোপন কথাও জানেন। আর তার কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে বিনয়ী, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং সবচেয়ে নিকটতম অবস্থান হলো সিজদা। সিজদা কেবল একটি ইবাদত নয়; এটি একজন বান্দার অসহায়ত্বের স্বীকারোক্তি, ভালোবাসার প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনার মুহূর্ত এবং রবের দরবারে হৃদয় উজাড় করে দেওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর সিজদা কর এবং (আমার) নৈকট্য অর্জন কর।’ (সুরা আল-আলাক: ১৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটে থাকে যখন সে সিজদায় থাকে। অতএব, তখন তোমরা বেশি বেশি দোয়া কর।’ (মুসলিম ৪৮২)। সিজদা আমাদের শেখায় বিনয়, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা। এখানে অহংকার গলে যায়, হৃদয়ের ভার হালকা হয় এবং বান্দা নতুন আশায় জীবন শুরু করার শক্তি পায়। যখন হৃদয় ভারাক্রান্ত হবে, যখন কাউকে নিজের কথা বলতে পারবেন না, তখন সিজদায় চলে যান—সেখানে চোখের অশ্রু বৃথা যায় না, নীরবতারও ভাষা আছে।