স্বামী-স্ত্রী মরে যায় ফুটপাথে,
ছেলে বসে সিগারেট টানে জানালায়,
কে দোষী? কে বেশি পাষাণ?
জানতে চাও কেন ওর বুকের ভেতর ভালোবাসার আগুন নিভেছিল আগে—
ওকে কে শিখিয়েছে জ্বালাতে?
শিশু জন্মায় অমৃতের ফোয়ারা,
আমরা শেখাই ঘৃণার বানান,
“ওটা বিষ, ওটা কালো, ওটা শত্রু, ওটা পর”
ভালোবাসার শব্দটা ধুয়ে ফেলি,
বড় হয়ে তারা জানে—
কীভাবে মাইক্রোসফট এক্সেল চালাতে,
কীভাবে প্রেমিকাকে ইগনোর করতে,
কীভাবে বাজারে দরদাম করতে,
কিন্তু জানে না—
কীভাবে মায়ের কপালের ঘাম মুছতে,
কীভাবে বাবার বুকে মাথা রাখতে,
কীভাবে বলতে, “আমি তোমাদের চোখে রোদ!”
তুমি গলা ফাটাও—“আমি তো সব দিয়েছি!
খাবার, জামা, বই, বাইক, টাকা, বিয়ে!”
তোমার চোখে রক্ত, আমার চোখে প্রশ্ন—
ভালোবাসাটা কোন বকেয়া খাতে ছিল?
ভালোবাসার রসিদটা দাও দেখি!
ওটা তো তালিকায় ছিলই না,
তাই আজ রসিদ মেলে না,
ভালোবাসা থাকে না!
পৃথিবী আয়না, বেয়াদব আয়না,
তুমি ঢিল দাও—ঢিল ফেরে,
ফুল দাও—ফুল ফেরে,
হাসি দাও—হাসি ফেরে,
ঘৃণা দাও—ঘৃণা ফেরে,
আর ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা ফেরে—
শুধু ফেরে, ফেরে, ফেরে,
এই তো গোপন সূত্র, এই তো রহস্য।
তাই শেখাও—
ঘাসে শিশির চিনতে,
বৃষ্টিতে ভিজতে,
একটা পোকার গল্প শুনতে,
একটা ফাঁকা দেয়ালে আঁকতে,
একটা অচেনাকে চা খাওয়াতে,
একটা দুপুরে কিছু না করতে—
এই সব ভালোবাসার নেশা।
ভালোবাসা চাঁদ নয়,
ভালোবাসা নোংরা রাস্তার ধুলো,
ভালোবাসা সাদা-কালো নয়,
ভালোবাসা ধূসর, বেয়াদব, এলোমেলো,
ভালোবাসা দিতে হয় প্রতিদিন,
যেমন দিতে হয় নিঃশ্বাস—অজান্তেই,
যেমন লেগে থাকে ঘাসের আগায়—নিরুপায়ে।
একদিন হিসাব শেষ, সনদ শেষ,
টাকা শেষ, চাকরি শেষ, বাড়ি শেষ,
শুধু থাকবে ভালোবাসার নেশা,
যেটা শেখাওনি,
যেটা দাওনি,
যেটা নিয়ে এখন চিৎকার—
“আমার বাচ্চা কেনো ফিরে তাকায় না?”
ফিরে তাকাবে কীভাবে?
ওদের তো তুমি এগিয়ে যেতে শেখাওনি?
ভালোবাসার পথটা দেখাও আগে,
তারপর চলার জুতো দাও,
কারণ পথ না জানলে জুতো দিয়ে কী হয়?
ভালোবাসাই পথ,
বাকি সব কেবল ভিড়।
লেখক: শাহনুর আলম, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন – পেট্রোরি ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন