বর্তমানে পিরিয়ড মিস হলেই অনেকেই ঘরে বসে বাজার থেকে কেনা প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে টেস্ট করান। কিন্তু সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই ফলাফল বুঝতে পারেন না বা বিভ্রান্ত হন। আজ জেনে নিন প্রেগন্যান্সি কিট ব্যবহারের সহজ পদ্ধতি, কখন করবেন টেস্ট এবং কীভাবে ফলাফল নিশ্চিত হবেন।
সঠিক সময় কী?
প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সবচেয়ে সঠিক সময় হলো পিরিয়ড মিস হওয়ার অন্তত ১ সপ্তাহ পর। এই সময়ে টেস্ট করলে সবচেয়ে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়। যদিও যেকোনো সময় টেস্ট করা যায়, তবে সকালের প্রথম ইউরিনের নমুনা সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন এইচসিজি (hCG) হরমোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সকালেই টেস্ট করলে নির্ভুল ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
টেস্ট করার নিয়ম
প্রথমে একটি পরিষ্কার ও শুকনো পাত্রে সকালের ইউরিন সংগ্রহ করুন। কিটের প্যাকেটে দেওয়া ড্রপার দিয়ে ২-৩ ফোঁটা ইউরিন টেস্ট স্ট্রিপের নির্দিষ্ট বক্সে (যেখানে ‘S’ চিহ্নিত থাকে) দিন। যদি ডিপ-স্ট্রিপ কিট হয়, তবে তা পাত্রের ‘MAX’ লাইন পর্যন্ত ৫-১০ সেকেন্ড ডুবিয়ে রাখুন। এরপর কিটের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তবে ১০ মিনিটের বেশি সময় পার হলে ফলাফল পরিবর্তন হতে পারে, তাই এই সময়ের মধ্যেই ফলাফল দেখে নিন।
ফলাফল কীভাবে বুঝবেন?
– যদি শুধু ‘C’ (কন্ট্রোল লাইন) চিহ্নিত স্থানে একটি গাঢ় দাগ দেখা যায়, তবে ফলাফল নেগেটিভ। অর্থাৎ গর্ভধারণ করেননি।
– যদি ‘C’ এবং ‘T’ (টেস্ট লাইন) উভয় স্থানেই দুটি দাগ দেখা যায়, তবে ফলাফল পজিটিভ। অর্থাৎ আপনি গর্ভবতী।
– অনেক সময় দুটি দাগ দেখা গেলেও একটি হালকা হতে পারে। এটি নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না, কারণ হালকা দাগও পজিটিভ নির্দেশ করতে পারে।
– যদি কোনো দাগই না ওঠে, তবে টেস্টটি ভুল হয়েছে। নতুন একটি কিট দিয়ে আবার পরীক্ষা করতে হবে।
মনে রাখবেন
প্রত্যেক কিটের নিজস্ব কিছু নির্দেশনা থাকে, তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাকেটের নির্দেশিকা ভালো করে পড়ে নিন। ফলাফল পজিটিভ বা নেগেটিভ যাই আসুক, এটি কেবল একটি প্রাথমিক নিশ্চিতকরণ। তাই দ্রুত একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।