সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় উত্তরকূল তিন্নখাল অঞ্চল থেকে নিখোঁজ হওয়া যুবক ডিপজল আহমদের (২৬) কোনো সন্ধান মিলছে না টানা পাঁচ দিনেও। ঘটনাকে ঘিরে সীমান্তজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও অস্থিরতা।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের ওপারে টহলরত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ডিপজলকে গুলি করার পর তার লাশ গুম করে ফেলেছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিএসএফ। ফলে পুরো ঘটনা এখন আরও বেশি রহস্যে ঘেরা হয়ে পড়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন ডিপজল আহমদ কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গীরা ফিরে এলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার চার দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে জকিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, সীমান্তে মহিষ আনার সময় বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন এবং তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওপারের দিকে। তবে প্রাথমিকভাবে বিজিবি জানায়, এমন কোনো ঘটনার নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই। পরবর্তীতে পতাকা বৈঠকেও বিএসএফ দাবি করে, ডিপজল আহমদের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও জানান, সঙ্গে থাকা লোকজন গুলির ঘটনা ও ডিপজলকে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, কেন বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ডিপজল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। স্বজনরা দ্রুত তার খোঁজ ও ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা দাবি করছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন এলাকাবাসী এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পরে বিজিবির মাধ্যমে হস্তান্তর করে।
এখনো পর্যন্ত ডিপজলের কোনো সন্ধান না মেলায় পুরো এলাকা জুড়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসন বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।