
টানা নয় দিনের অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজার জেলা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা। বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পরিবার এবং ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দুর্যোগে বন্যা, পাহাড়ধস, দেয়ালধস, নৌকাডুবি ও পানিতে ডুবে মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উখিয়া, চকরিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, সদর ও পেকুয়া উপজেলা। ৬৬৮টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ১৫ হাজার ৮৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে ১০ হাজার ৪০১ একর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে, যা ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মৎস্য খাতে ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।
বিশুদ্ধ পানির সংকটে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। ৪ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত আট দিনে জেলায় ৮২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণকে দুর্যোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।