
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের জনজীবন বিপর্যস্ত। পাহাড়ধস, মাটির ঘরচাপা ও জলাবদ্ধতায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে উখিয়ায় মাটির দেয়াল ধসে মো. আব্দুল মালেক (৪০) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। এ নিয়ে জেলায় দুর্যোগজনিত ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। এর আগে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে ১২ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে নারী-শিশুসহ স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত এবং গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত পাহাড়সংলগ্ন ও মাটির ঘরে বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পাহাড়ী এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।