ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরে নতুন করে মতবিরোধ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে একই পদে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকায় অনেক এলাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রুপিং, লবিং এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনও বাড়ছে।
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট সাংগঠনিক বিরোধ মেটাতে অতীতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিভিন্ন জেলায় হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান, মেয়র, মেম্বার ও কাউন্সিলর পদপ্রত্যাশীদের সমর্থকদের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কয়েকটি জেলায় জেলা আমিরদের সঙ্গে অধস্তন নেতাদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকজন নেতার রুকনিয়াত পদ স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছু জেলা পর্যায়ের নেতা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলীয় পদ বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কেউ নিজে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে দলটির নেতাকর্মীরা এই নীতি অনুসরণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তিনজন প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জামায়াতের সাংগঠনিক বিস্তার এবং নির্বাচনী সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দলটির ভেতরে পদ ও প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহও বেড়েছে। ফলে অতীতের তুলনায় দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা এবং অনুশাসন ভঙ্গের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা দাবি করেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখেই সব মতবিরোধ সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে দলকে শক্ত অবস্থানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল পরিচালিত হয়। জাতীয় নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই অতীতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠন যাকে মনোনয়ন দেয়, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের মতো জোটগত জটিলতা না থাকায় বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনাও কম।”
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
১
ভারত সীমান্তে ১১টি জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন